উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের নিরাপদ নৌযাতায়াত নিশ্চিত করতে বরিশাল, ভোলা ও নোয়াখালী জেলায় লঞ্চ ও ফেরিঘাট উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের উদ্যোগে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১ (BRWTP-1) এর আওতায় এসব কার্যক্রম চলছে।
গতকাল ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে উপদেষ্টা বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার হিজলা লঞ্চঘাট, বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাট লঞ্চঘাট, ভোলা জেলার ইলিশা লঞ্চঘাট এবং মনপুরা উপজেলার রাম নেওয়াজ লঞ্চঘাট-২—এই চারটি লঞ্চঘাটের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এ সময় তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাট, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ফেরিঘাট এবং চেয়ারম্যান ঘাট ফেরিঘাটের উদ্বোধনও করেন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরাপদ, টেকসই ও নিরবচ্ছিন্ন নৌযোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। বিআরডব্লিউটিপি-১ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে নৌপথের নাব্যতা রক্ষা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিন তিনি ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ঢালচর, কাজীরচর ও কালাতলিরচর এলাকাকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সাবমেরিন কেবল নির্মাণ কাজের উদ্বোধনও করেন।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে উপদেষ্টা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (BREB)-এর চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সাবমেরিন কেবল স্থাপনের ফলে মনপুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।