পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় ইতোমধ্যে ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম চালু হয়েছে। খুব শিগগিরই দুর্গম এলাকার আরও ১৫০টি স্কুলে এই মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে তিনি জানান।
নিজেকে একজন পার্বত্যবাসী উল্লেখ করে সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণই তাঁর সারাদিনের চিন্তা। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। পার্বত্যবাসীর অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার কেবল সমতার কথা নয়, বরং ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সংঘাত নয়, শান্তি চায়। এই দেশ সবার, কেউ এককভাবে দেশের ক্ষতি করতে পারবে না। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।