বাংলাদেশের বিনিয়োগ সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে চালু হলো বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণ বাংলাবিজ ২.০। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর যৌথ উদ্যোগে আজ এই নতুন সংস্করণের উদ্বোধন করা হয়।
ঢাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহিদে। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা হতে হবে পুরোপুরি ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যেখানে সম্ভব সেগুলো বাদ দেওয়া জরুরি।
জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান ইচিগুচি তোমোহিদে বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ, দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার দাবি জানিয়ে আসছেন। বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান। তিনি বলেন, একীভূত অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ বিশ্বমানের হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে জাইকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। সে লক্ষ্যেই বাংলাবিজকে একটি মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিস পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।
বাংলাবিজ ২.০-তে যুক্ত হওয়া নতুন সুবিধার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে। নতুন ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন—নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন এবং ট্রেড লাইসেন্স—একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধন শেষ করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি ও ইআরসি)সহ ২০টিরও বেশি বহুল ব্যবহৃত ব্যবসায়িক অনুমোদন বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাবিজ ২.০ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।