মৌলভীবাজার-৩ আসনে প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ বিলালের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর) আসনে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ও খেলাফত মজলি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জননেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ বিলাল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

ইশতেহার ঘোষণায় তিনি বলেন, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর এই অঞ্চলের মানুষের গর্ব। এ জনপদকে পরিকল্পিত, উন্নত, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে শহরকে যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও ডিজিটাল নগরীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেন তিনি।

ইশতেহারে সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, প্রতিটি মানুষের জানমাল ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। বয়স্ক ও শিশু ভাতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে।

শিক্ষা খাতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, রাজনগর ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট দূর এবং অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কওমি মাদরাসা শিক্ষার মান উন্নয়নে আলেমদের পরামর্শে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি মৌলভীবাজার সদরে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপনের অঙ্গীকার করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত করা, আইসিইউ ও স্বল্পমূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা চালু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, তরুণদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগের আশ্বাসও রয়েছে ইশতেহারে।

নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেম চালু, পৌরসেবাকে ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সেবায় রূপান্তর এবং রাজনগর উপজেলাকে পৌরসভায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার বা বাইপাস সড়ক, শহরের বাইরে আধুনিক বাস ও ট্রাক টার্মিনাল স্থাপন এবং নির্দিষ্ট সিএনজি ও ইজি-বাইক স্ট্যান্ড তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী, শেরপুর ইকোনমিক জোনকে কার্যকর করা, আইটি বা হাই-টেক পার্ক স্থাপন এবং নারীদের জন্য কুটির শিল্প প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রে হাওর রক্ষা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং জলমহাল প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, চিকিৎসা ও সম্মানি ভাতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পর্যটন খাতে বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক উন্নয়ন, হাওরাঞ্চলে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন, পাঁচগাঁও গণকবর সংরক্ষণ ও জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রাস্তাঘাট উন্নয়ন, সৌরবিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি, গ্যাস সংকট নিরসন এবং কুশিয়ারা, ধলাই ও মনু নদীর ওপর একাধিক সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

ইশতেহার ঘোষণার শেষে মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, তিনি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবার জন্য রাজনীতিতে এসেছেন। জনগণের ভোট ও সমর্থন পেলে মৌলভীবাজার ও রাজনগরকে একটি আধুনিক, স্বনির্ভর, নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন—এটাই তার অঙ্গীকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *