তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপোষ করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকতা দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে পরিণত হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট আয়োজিত ‘গণমাধ্যম উৎসব ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে ৫৪ বছরেও একটি গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা যায়নি, যা হতাশাজনক। বর্তমান সরকার সাংবাদিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার অধ্যাদেশ প্রণয়নের চেষ্টা করছে। সময় স্বল্পতার কারণে যদি অধ্যাদেশ জারি করা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে রেখে যাওয়া হবে। ইতোমধ্যে খসড়াগুলো জনমতের জন্য সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশকে ভিত্তি করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রিজওয়ানা হাসান বলেন, হুমকি-ধামকির ভাষা পরিহার করতে হবে। পেশাদার আচরণ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। সংবিধানে প্রদত্ত বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে। মতভিন্নতা থাকলেও সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্য প্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই আয়োজনের মূল বার্তা শুধু স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নয়, ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফিরে আসতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে শহিদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়-এর মা সামসি আরা জামান বলেন, সাংবাদিকদের জন্য সম্মানজনক জীবিকা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ফ্যাসিবাদী শক্তি সাংবাদিকদের ব্যবহার করার সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফ্যাসিবাদমুক্ত সমাজ চাই-এর আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি গোলাম মওলা মুরাদ, জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্সের সভাপতি ও যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ তুহিন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন।
অনুষ্ঠান শেষে আসন্ন গণভোট ও নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য একটি হটলাইন নম্বর (০৯৬৪৪১১১৪৪৪) উদ্বোধন করা হয়।