নির্বাচনি আচরণবিধি ভাঙলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কেউ আইন ভাঙলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

বুধবার (আজ) ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভার সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং অতিরিক্ত আইজিপি (ফিন্যান্স) মো. আকরাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী। এছাড়া ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়াসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে কাউকে বেআইনি কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বাহিনীর সদস্যদের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৫, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ভালোভাবে জানার ও কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।

নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত আচরণবিধি সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে হবে। প্রয়োজনে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে প্রতিদিন বা নির্দিষ্ট সময়ে সভা করে প্রস্তুতি, সমস্যা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তা ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত, পূর্ববর্তী নির্বাচনে অনিয়মে জড়িত, দলকানা বা বিতর্কিত—তাদের কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনি দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) প্রস্তুত করা এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। অ্যাপটির সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ও বুথ স্বচ্ছ ও উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে হবে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা সহজ ও যাতায়াতযোগ্য রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যালট বাক্সসহ সব নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা ও সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন সম্ভব। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। সকলের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *