মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের মাঝাইল–মান্দারতলা মালোপাড়া ও রাজধরপুর এলাকায় মধুমতী নদীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব, অন্যদিকে নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার পড়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র গত দুই মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে বালু তুলে বলগেট নৌযানে করে অন্যত্র বিক্রি করছে। দিনের বেলা এলাকায় কোনো তৎপরতা না থাকলেও রাত নামলেই শুরু হয় বালু উত্তোলনের কাজ।
অবৈধ এই কর্মকাণ্ডের ফলে মধুমতী নদীর বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী একটি মন্দির, বহু বসতভিটা ও কৃষিজমি এখন সরাসরি হুমকির মুখে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। তারা জানান, প্রশাসনের লোকজন অভিযানে গেলে উত্তোলনকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে প্রশাসন চলে গেলেই আবার রাতের আঁধারে ফিরে আসে চক্রটি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই কাজ বন্ধ না করা গেলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জিওব্যাগসহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখনই নেওয়া জরুরি।”
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সালেক মূহিদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন ও বলগেট নৌযান জব্দ করতে হবে। একই সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।