মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় টিআর ও কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসানের বিরুদ্ধে ১০ শতাংশ ঘুষ দাবি করার অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। এ অভিযোগে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দুপুরে বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসে এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা চেয়ারম্যান কমিটির সভাপতি ও বিনোদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মেজবাউল ইসলাম।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, টিআর ও কাবিখা প্রকল্প থেকে প্রতি লাখ টাকার বিপরীতে ১০ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে পিআইওকে দিতে হয়। এই টাকা দেওয়ার ফলে কাজের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি বলেন, “আমরা শতভাগ কাজ করি, এক নম্বর ইট-বালি ব্যবহার করি। তারপরও কেন আমাদের এই টাকা দিতে হবে? এই ঘুষ দিলে আমাদের লস হয়।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অর্থ আর দিতে না হয়, সে জন্য বিষয়টির প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।
এর আগে দীঘা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিক শিকদার ফোনে প্রেসক্লাব মহম্মদপুরের সভাপতির কাছে একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কাজ পরিচালনা করেন। কিন্তু চলতি টিআর-কাবিখা প্রকল্প শুরু হলে পিআইও নানা তালবাহানা শুরু করেন। সে সময় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন কাজ সঠিকভাবে করার নির্দেশ দেন এবং কোনো শতাংশের বিষয় নেই বলে জানান। এরপরও কাজ শেষে পিআইও ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন এবং পরে ১০ শতাংশে সমঝোতা হয় বলে অভিযোগ করেন রফিক শিকদার।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্যও একই অভিযোগের কথা জানান।
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সত্য নয়। পাশাপাশি তিনি ফোন করে মহম্মদপুরের প্রেসক্লাব সভাপতির কাছে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।