বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বারিন্দ ট্র্যাক্টে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও বৈষম্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার, ভৌগোলিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং যথাযথ স্বীকৃতির অভাব তাদের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজশাহীর তানোরে সাম্প্রতিক এক সফরে এসব বাস্তবতা কাছ থেকে দেখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। তিনি লক্ষ্য করেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা এবং ব্র্যাকের কার্যক্রমে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনগুলো ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এসব সংগঠন স্থানীয় মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছে, নিজ নিজ এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ করছে এবং প্রয়োজনে সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘমেয়াদে তারা কমিউনিটির অভিভাবক হিসেবেও কাজ করছে।
সফরের সময় হাইকমিশনার অজিত সিং আদিবাসী নারীদের সঙ্গেও কথা বলেন। তাদের জীবনের গল্পে উঠে আসে সংগ্রাম, সাহস এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার চিত্র। কেউ কেউ এখন নিজের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহ দিচ্ছেন।
‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর মাধ্যমে কানাডা এসব আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের করে আনতে সহায়তা করছে। লক্ষ্য হলো টেকসই জীবিকা গড়ে তোলা, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা।
উন্নয়ন সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থানীয় উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে বারিন্দ অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান বদলানো সম্ভব। এই ধারাবাহিক সহযোগিতা তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক ভবিষ্যতের পথ খুলে দিচ্ছে।