মিশরের শার্ম আল শেখে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক নাটকের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনায় হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর নেতা খলিল আল হাইয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “শান্তি চাইলে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের বিশ্বাসযোগ্য গ্যারান্টি দিতে হবে। আমরা ইসরায়েলকে এক সেকেন্ডের জন্যও বিশ্বাস করি না।”
তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রীও। তিনি বলেছেন, “হামাসের নিরস্ত্র হওয়াটা একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না, মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গাজার মানুষের শান্তি ও যুদ্ধবিরতি।”
এরই মধ্যে হামাস, ইসলামিক জিহাদ ও মুজাহিদিন মুভমেন্টসহ গাজার সব সশস্ত্র সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা ফিলিস্তিনিদের মানবিক অধিকার।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও এসেছে নতুন সুর। হামাসকে নিরস্ত্র করার আগের দাবি বাদ দিয়ে তিনি এখন বলছেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য তিনটি— হামাস গাজার ক্ষমতায় থাকবে না, বন্দিদের মুক্তি ও গাজা যেন ইসরায়েলের জন্য হুমকি না হয়।
হামাসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, তারা ক্ষমতা টেকনোক্র্যাট সরকারের হাতে হস্তান্তর করতে রাজি। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন আর হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নয়, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা ত্যাগের নিশ্চয়তা।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান জানিয়েছেন, তিনি হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং শান্তি প্রচেষ্টার প্রধান বাধা হিসেবে ইসরায়েলকেই দায়ী করেছেন। তার ভাষায়, “শান্তির পায়রা এক পাখায় উড়তে পারে না।”
অন্যদিকে, আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে হামাসের জমা দেওয়া বন্দিদের তালিকা। মুক্তির দাবিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় রাজনীতিক মারওয়ান বারগুসি, যাকে অনেকে “ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা” বলে আখ্যা দেন। তার মুক্তির দাবি হামাসের রাজনৈতিক পরিসর আরও সম্প্রসারিত করেছে।
শার্ম আল শেখে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধানও। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা কাতারের প্রধানমন্ত্রী, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত উইটকফ এবং এরদোগানের। মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যদি ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত অংশ নেন, তবে এটি ২০২১ সালের কাতার শান্তি চুক্তির মতো এক ঐতিহাসিক দৃশ্য হয়ে উঠতে পারে— যেখানে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি হয়েছিল ইসলামিক এমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। এবার মঞ্চ মিশরের, পক্ষ দুটি হামাস ও ইসরায়েল।