অবৈধ আর্থিক প্রবাহ প্রতিরোধ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফেরত আনতে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব সম্পদ জাতীয় উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে দেশটি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর আয়োজিত আর্থিক সততা বিষয়ক বিশেষ বৈঠকে এ কথা বলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান জনজীবনে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এই গণ-অভ্যুত্থান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমতের শক্ত অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
রাষ্ট্রদূত চৌধুরী তার বক্তব্যে তথাকথিত ‘মেগা প্রকল্প’-এর সমালোচনা করে বলেন, এসব প্রকল্প সাধারণ মানুষের জন্য খুব সীমিত সুফল বয়ে আনে। বরং এগুলো দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে এবং জনগণের অর্থ বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ে পাচারের পথ তৈরি করে দেয়।
পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, বৈধ মালিকদের কাছে এসব অর্থ ফেরত দিতে হলে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তথ্যের যথাযথ আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং এ বিষয়ে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
গত জুন মাসে স্পেনে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন অর্থায়ন বিষয়ক চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফলাফলকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে গৃহীত রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে করে পুনরুদ্ধারকৃত অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অবৈধ অর্থপাচার বন্ধ ও পাচার হওয়া সম্পদ ফেরত আনা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এটি এখন সময়ের দাবি।