বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হলো। আজ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাপানের রাজধানী টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পাদিত প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মাননীয় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও।

এই চুক্তির ফলে তৈরি পোশাকসহ মোট ৭,৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বিশেষ করে পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় কাঁচামালের উৎস নিয়ে কোনো জটিল শর্ত মানতে হবে না। এতে জাপানে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চুক্তির আরেকটি বড় দিক হলো সেবা খাতে সুযোগ সম্প্রসারণ। এর আওতায় জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিংসহ মোট ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে যেমন দেশের কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য ৯৮টি উপ-খাত এবং ১,০৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির স্থানান্তর, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের মানোন্নয়ন ঘটবে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *