ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে টাঙ্গাইল জেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা দ্রুত বাড়ছে। জেলার আটটি সংসদীয় আসনকে কেন্দ্র করে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল মাঠে নেমে পড়েছে। জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে তারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নেতারা শহর ও গ্রাম—উভয় পর্যায়েই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা জোরদার করেছেন। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে “জনতার সংযোগ” নামে একটি ফোন বুথ স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। এই বুথের মাধ্যমে ভোটাররা সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং নিজেদের এলাকার সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
বিএনপি নেতারা পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণও নিজেদের চাওয়া-পাওয়া ও প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরাসরি যোগাযোগ ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। টাঙ্গাইল-৮ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ভোটারদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নৈতিক রাজনীতি এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সম্প্রতি দলটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা একাধিক জনসভা ও র্যালি করেছেন। এসব কর্মসূচিতে সামাজিক সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া এনসিপি ও অন্যান্য সমমনা বিরোধী দলগুলোও নিজেদের মতো করে টাঙ্গাইলে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা স্থানীয় সমস্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানুষের জীবিকা নিয়ে কথা বলছে এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টাঙ্গাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হওয়ায় বিরোধী দলগুলো এখানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোটাররাও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জনসভা, পথসভা ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে। এর ফলে টাঙ্গাইল জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
শাকিলুজ্জমান
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি