কুমিল্লার মেঘনা, গোমতী ও তিতাস—এই তিন নদীর নামে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তিননদী পরিষদ’ দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে একুশের চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও সংগঠনটি কুমিল্লা নগর উদ্যানের জামতলায় ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে ২১ দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ২১ দিনের কর্মসূচির ৮ম দিনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক রাহুল তারণ পিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা কোর্টবাড়ীস্থিত গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের অধ্যক্ষ রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা পারভীন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার এবং সাংবাদিক শ্যামল বড়ুয়া ববি। এতে সভাপতিত্ব করেন তিননদী পরিষদের কর্ণধার, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও অভিবাদন সম্পাদক আবুল হাসনাত বাবুল।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন কুমিল্লা গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন তিননদী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক অভিবাদনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পারভিন হাসানাত, সাংবাদিক সুমাইয়া হাসানাত সময়, রুনা আক্তার, নাহিদা আক্তারসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তিননদী পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তারা মনে করেন, দেশের খুব কম জায়গায়ই এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক আয়োজন দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল বলেন, “মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমরা ‘তিননদী পরিষদ’ গঠন করেছি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে মা, মাটি, দেশ, বাংলা ভাষা এবং একুশের চেতনা পৌঁছে দেওয়া।”