পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি উন্নত ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষা এবং জীবিকার মানোন্নয়নকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বলেন, পাহাড় ও সমতলের বৈষম্য কমাতে ই-লার্নিং একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার অজিত সিংহের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই উন্নয়ন উদ্যোগ সফল হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট—যেমন স্টারলিংক বা সমজাতীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে শহরের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অনলাইনে সরাসরি গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো কঠিন বিষয় পড়াতে পারছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষকের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, সরকার ‘লাইভলিহুড ডেভেলপমেন্ট’ বা জীবিকার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ গরিব থাকার কথা নয়। এই সম্পদশালী অঞ্চলকে স্বাবলম্বী করতে জুম চাষের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং কফি, কাজুবাদাম ও ড্রাগন ফলের মতো উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা করে স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পার্বত্য অঞ্চলকে ‘ইকো-ট্যুরিজম’ হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব অতুল সরকার ও মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, উপদেষ্টার একান্ত সচিব খন্দকার মুশফিকুর রহমান, কানাডিয়ান হাইকমিশনারের প্রথম সচিব জোসেফ ম্যাকিন্টশ, কনসালটেন্ট এএইচএম মহিউদ্দিন এবং ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার যুগেশ প্রাধানাং।