মারুফ আহমেদ
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের নির্বাচনী মাঠ এবার বেশ জটিল। একটিমাত্র উপজেলা নিয়েই গঠিত এই আসনে ভোটারের সংখ্যা তিন লাখের বেশি। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিপুল ভোট, সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক—এই দুই ‘ফ্যাক্টর’ই এবার ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার-২ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ তিন হাজার ২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৭ হাজার ৫২৮ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৪৫ হাজার ৮৯২ জন। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০৩টি।
স্থানীয়ভাবে কুলাউড়াকে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের ‘অভয়াশ্রম’ হিসেবে দেখা হয়। যদিও এবার দলটি নির্বাচনে নেই, তবুও দলটির সমর্থক ভোটাররা বিভিন্ন প্রতীকের আড়ালে সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আওয়ামীপন্থী ভোট এখন কার্যত ‘সুইং ভোটে’ পরিণত হয়েছে। যে প্রার্থী এই ভোট নিজের পক্ষে টানতে পারবেন, জয়ের সম্ভাবনাও তার দিকেই ঝুঁকবে—এমনটাই বলছেন স্থানীয় ভোটাররা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চা শ্রমিকদের ভোট। কুলাউড়ার ২২টি চা বাগানে প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক রয়েছেন। সংখ্যায় কম মনে হলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এই ভোটগুলো যে বড় ব্যবধান তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে একমত সবাই।
এলাকায় এককভাবে কাউকে খুব বেশি এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না। কারণ প্রায় সব প্রার্থীই নিজ নিজ জায়গায় পরিচিত ও প্রভাবশালী। তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল লড়াইটি হবে কয়েকটি প্রতীকের মধ্যে।
এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু এবং জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এম সায়েদ আলীকে তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রাখা হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের ফজলুল হক খান সাহেদকে অনেকেই ‘অঘটন ঘটানোর ক্ষমতাসম্পন্ন’ প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। ফুটবল প্রতীকের নওয়াব আলী আব্বাস খানও জনপ্রিয় একটি মুখ।
এ ছাড়া এই আসন থেকেই লড়ছেন মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী। বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী এরই মধ্যে বিশিষ্ট জিন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর সমর্থন পেয়েছেন। অপর প্রার্থীরা হলেন—ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিল্পপতি জিমিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মালিক এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস।
অনেক পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতার ভিড়ে এবার ‘আসনের অভিভাবক’ কে হবেন, তা ঠিক করা সহজ নয় ভোটারদের জন্য। তবে স্থানীয় জনমত জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে—ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ফুটবল ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের মধ্যেই মূলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
শেষ পর্যন্ত শেষ বাঁশি বাজার পরেই জানা যাবে, কুলাউড়ার মানুষ কার গলায় বিজয়ের মালা পরাবেন। সেই চূড়ান্ত মুহূর্তের অপেক্ষায় এখন পুরো মৌলভীবাজার-২ আসন।