মানিকছড়িতে হালদা নদী রক্ষায় তামাক চাষ সম্পূর্ণ বন্ধ

চলতি বছর হালদা অববাহিকার মানিকছড়ি অংশে তামাক চাষ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। গত বছর এই অঞ্চলে ১১ জন চাষির প্রায় ২০ একর জমিতে তামাক চাষের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ বছর তামাক চাষ রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং তামাক চাষ হালদা নদীর প্রাকৃতিক কার্পজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র ও পানি দূষণের প্রধান কারণ। তামাক চাষ বন্ধ হওয়ায় নদীর মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৫ নভেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হালদা নদীর মৎস্য হেরিটেজ সংরক্ষণে বিদ্যমান গেজেট সংশোধন করে হালদা অববাহিকায় তামাক চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পরে ২১ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তামাক চাষ ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও প্রশাসন সরাসরি চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে জানিয়ে চারা রোপণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সাধারণত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে তামাকের চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের বিকল্প ফসল যেমন সরিষা, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষে উৎসাহিত করছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করতে বলেছেন যাতে ভবিষ্যতে হালদা অববাহিকায় তামাক চাষ পুনরায় শুরু না হয়। নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *