জাকির হোসেন
টাঙ্গাইল শহরের রাজপথ নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন ছিলো মিছিলের দখলে। দুই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিল একটার পর একটা আসছে, যেন শেষই নেই। মাইকের শব্দ আর ব্যান্ড পার্টির তালে কেঁপে উঠছে আশপাশের এলাকা। বাইরে থেকে দেখলে পুরো পরিবেশটা উৎসবমুখর। কিন্তু এই ভিড় আর স্লোগানের আড়ালে চলছে কঠিন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।
মিছিলের স্লোগানে মাঝেমধ্যেই ভেসে আসছে ভিন্ন বার্তা—“ধানের শীষ নয়, হরিণ, হরিণ!” দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তবে তাঁর মিছিলে হৃদপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে দুই কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এটিকে ‘অপশকুন’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে এবার ভোটের লড়াই ত্রিমুখী। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু লড়ছেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে। একই দলের বহিষ্কৃত নেতা ফরহাদ ইকবাল মাঠে আছেন ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে। এই দুই প্রতীকের ভোট ভাগ হয়ে গেলে সুবিধা পেতে পারে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ, যিনি ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—এমন আলোচনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোরালো।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ খালেদ মোস্তফাও এবার ‘তারা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আছেন। তিনি আগেও একাধিকবার এই আসনে প্রার্থী হয়ে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়দের অনেকেই তাঁকে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেখেন। সম্প্রতি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হলেও সেই ঘটনায় এলাকায় বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে তাঁর উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
মিছিলের কারণে শহরের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তা পার হতে না পেরে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাধারণ মানুষ বলেন, “মিছিল যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, শেষ হচ্ছে না। কিন্তু ভেতরে কী হচ্ছে, কে জিতবে—তা তো সময়ই বলবে।”
সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল-৫ আসনে নির্বাচনী লড়াই যেমন হাড্ডাহাড্ডি, তেমনি প্রতীকের রাজনীতিও জটিল। মিছিলের দৈর্ঘ্য দলীয় শক্তি দেখালেও শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন কোন প্রতীকের পেছনে ভোটারদের ঐক্য গড়ে ওঠে—সেটাই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ফলাফল।