নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর গত পাঁচ মাসের কার্যক্রমে রাজস্ব আয়, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ সময়কালের সার্বিক অর্জন তুলে ধরে এ তথ্য জানান নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকনির্দেশনা ও আধুনিকায়নমূলক উদ্যোগের ফলে দেশের নৌখাত ধীরে ধীরে শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানের খাতে রূপ নিচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বন্দরের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ২ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৭৭ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে ৮৩৭ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা। উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪০ দশমিক শূন্য ৮ কোটি টাকা।
এ সময়ে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর সর্বকালের সর্বোচ্চ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়েছে।
ভারী কার্গো ওঠানামার সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া এলাকায় হেভি লিফট কার্গো জেটি নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এছাড়া PPP মডেলে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য APM Terminals BV-এর সঙ্গে ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। এটি ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা (PRF) প্রকল্প চালু হয়েছে।
পায়রা বন্দরে দেশি-বিদেশি জাহাজ থেকে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে। এতে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। পিপিএফটি প্রকল্পের আওতায় সড়ক, সেতু ও মোবাইল হারবার ক্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে কুতুবদিয়া, হাতিয়া, মহেশখালী, ভাসানচরসহ বিভিন্ন দ্বীপে সি-ট্রাক ও ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ৩০টির বেশি লঞ্চঘাট ও ৫০টির বেশি পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ৩০৬ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে দেশের সক্ষমতা বেড়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আদায়ও সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে GMDSS, কোস্টাল রেডিও স্টেশন ও লাইটহাউজ স্থাপনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ রোধে আইনগত ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। এছাড়া মেরিন একাডেমি ও ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নাবিক তৈরির কার্যক্রমও জোরদার হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, নৌখাত শুধু পরিবহন নয়, জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি। লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও দক্ষ মেরিটাইম হাবে রূপান্তর করা।
সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।