ঢাকায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ জানিয়েছেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় সরকার নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে। ‘পাশে আছে’ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। এই টিম সার্বক্ষণিক সেবা দেবে। এর মধ্যে থাকবে স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা।
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, স্বৈরশাসনের পর একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “জুলাই কন্যা”দের শনাক্তকরণ, তাদের জীবনের গল্প সংরক্ষণ এবং পুনর্বাসনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি নির্ভরযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিদ্যমান কাঠামো সংস্কার করে ‘জেন্ডার সমতা উৎকর্ষ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম অনুমোদন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত খসড়া আইন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০২৬ সালের অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ পরিবারে নারী ও শিশুর অধিকার ও পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কার্যকর করতে নারী ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত কার্যক্রম ও মনিটরিং চলছে।
সমাজকল্যাণ খাতের বিষয়ে শারমীন এস মুরশিদ জানান, ভাতাভোগীদের ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিদের ভাতা, মাদ্রাসার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট এবং ক্যান্সার রোগীদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, মন্ত্রণালয়ে প্রণীত কর্মপরিকল্পনাগুলো ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর সুফল দেশের নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পাবে।