২০২৬ সালের হজে প্যাকেজ–১ এর হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় হোটেল ভাড়া মিলিয়ে প্রায় এক হাজার সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি হজযাত্রীর পরিবহন ভাড়া ১০০ সৌদি রিয়াল কমানো সম্ভব হয়েছে। হজ শেষে প্যাকেজ–১ ও প্যাকেজ–২ এর হজযাত্রীরা মোট তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম এবং বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। চলতি বছরে বিমানভাড়া আরও প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুই বছরে মোট ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া কমানোকে তিনি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে উল্লেখ করেন।
এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্যাকেজ–৩ এর সার্ভিস চার্জ সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রতি হজযাত্রীর প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। এই সাশ্রয়কৃত অর্থ বাড়িভাড়া ও হোটেল থেকে হারাম শরীফে যাতায়াত খরচের সঙ্গে সমন্বয় করে হাজিদের আবাসন হারাম শরীফের আরও কাছাকাছি নেওয়া হয়েছে। এতে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সহজে আদায় করা সম্ভব হবে।
ড. খালিদ বলেন, গত দেড় বছরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর–সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, সংস্থাটির শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। মামলা নিষ্পত্তি হলে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ২৯ জন এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৩২ জনকে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের আরও শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।