আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট বা অন্য কোনো অনিয়ম হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর। তিনি জানান, তিনটি দিক থেকে এবারের নির্বাচন আলাদা—সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। ভোটকেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ও ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এছাড়া ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু থাকবে। প্রিজাইডিং অফিসার ও আনসার সদস্যরা নির্বাচনি সামগ্রী নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছালে অ্যাপটি সক্রিয় করা হবে।
তিনি নির্দেশ দেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি আছে কি না তা আগেই নিশ্চিত করতে হবে। যেসব কেন্দ্রে বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে হলেও ঘের তৈরি করতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্স উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়ার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় প্রার্থীদের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, কিছু আসনে পোস্টাল ব্যালট ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি রিজার্ভ ফোর্স রাখা হবে। তারা ফজরের সময় থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করবে এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে। গণনা দীর্ঘ হলে দায়িত্বও দীর্ঘায়িত হতে পারে। রিজার্ভ সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধির কাছ থেকে অর্থ, সুবিধা বা খাবার গ্রহণ করা যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে টহল বাড়াতে হবে। দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আগেই স্ট্রাইকিং ফোর্সের মানচিত্র নির্ধারণের কথাও বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্ব পালনে কোনো বিচ্যুতি চলবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।
সভায় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে নির্বাচনি প্রস্তুতি সন্তোষজনক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তিনি দাবি করেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সহিংসতার হার কম। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।