বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এই বাস্তবতায় দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলাই টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক।
ঢাকার ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) আওতায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে (এএফডি) বিভিন্ন সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক ই আজম বলেন, দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে মানুষের জানমাল রক্ষা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী দ্রুত পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগের সময় আরও দ্রুত, কার্যকর ও নিরাপদভাবে কাজ করতে পারবে। বিশেষ করে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে এসব যন্ত্রপাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এই সরঞ্জাম হস্তান্তরের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হলো।
উপদেষ্টা জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে সংস্কার করা হচ্ছে। এই সংস্কারের আওতায় দুর্যোগ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম মন্ত্রণালয়কে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রেখে সমন্বয় করা হবে। এ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী সরকার তা সম্পূর্ণ করবে।
প্রকল্পের আওতায় এবার তিনটি ৪৮ টন ক্ষমতাসম্পন্ন হেভি ডোজার, তিনটি ২০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ডোজার এবং তিনটি ফর্কলিফট হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোম্পানি কোমাতসু (KOMATSU) নির্মিত। এগুলো উচ্চ সক্ষমতা ও টেকসই কাঠামোর হওয়ায় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত যানবাহনের চাবি হস্তান্তর করেন এবং নতুন সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন।
এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বক্তব্য দেন।