এআই ও রাসায়নিক অস্ত্র ঝুঁকি মোকাবিলায় শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

দেশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস, কার্গো ও কুরিয়ার সেকশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালার শিরোনাম ছিল— ‘রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (CWC) এর উপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রভাব এবং বাংলাদেশে বিমানবন্দরসমূহের করণীয়’

বিমানবন্দরটি রাসায়নিক দ্রব্য আমদানির অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট জনবলের সক্ষমতা বৃদ্ধি ছিল এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তি কীভাবে অপব্যবহার হয়ে প্রথাগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে এবং রাসায়নিক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে— সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়।

প্রশিক্ষণে মোট ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় উঠে আসে, এআই প্রযুক্তি একদিকে যেমন নজরদারি ও ঝুঁকি শনাক্তকরণে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে তা ভুল হাতে পড়লে আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা বলয় ভেদ করার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি)-এর সদস্য সচিব কমডোর মোঃ মনির উদ্দীন মল্লিক (ট্যাজ), এনপিপি, এনডিসি, পিএসসি, বিএন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।

সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বিমুখী ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনএসিডব্লিউসি ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করবে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে কোনো দুষ্কৃতিকারী এআই বা বিমানবন্দর ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে রাসায়নিক দুর্ঘটনা ঘটাতে না পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি বাড়ার সময়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *