গণতান্ত্রিক সংসদের জন্য গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরলেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণতন্ত্রের রূপান্তর, সংস্কার ও রাজনৈতিক উত্তরণ নিয়ে একটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BIGD) তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে। উপস্থাপনার শিরোনাম ছিল— “Rupture, Reform and Reimagining Democracy – Navigating the Agony of Transition”। এতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী দেড় বছরের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এ সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার প্রেক্ষাপটে কিছু সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি বলেও আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোন পথে এগোনো যেতে পারে, সে বিষয়েও সম্ভাবনা ও করণীয় তুলে ধরা হয়।

উপস্থাপনায় অংশ নেন BIGD’র ড. মির্জা এম হাসান, মাহীন সুলতানা ও সেলিনা আজিজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ শাহানও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনপরিসরে গভীর ও তথ্যভিত্তিক গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদের জন্যও কার্যকর হতে পারে।

BIGD’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মাতিনও তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে গবেষণার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা, সংস্কারের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচকরা মনে করেন, টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও খোলামেলা আলোচনা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *