১১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়েছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) ক্ষেত্রে নারী ও কন্যাশিশুদের আন্তর্জাতিক দিবস। এই দিবসের লক্ষ্য হলো বিজ্ঞানভিত্তিক সব ক্ষেত্রে নারীদের পূর্ণ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবস বিশ্বজুড়ে লিঙ্গসমতা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কারণ নারী ও কন্যাশিশুরা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক। অর্থাৎ, বিশ্বের মোট সম্ভাবনারও অর্ধেক তাদের হাতে। তবুও বাস্তবতা হলো—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের লিঙ্গ বৈষম্য রয়ে গেছে।
এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো: “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বিজ্ঞান, STEM ও অর্থায়নের সমন্বয়: নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।”
এই প্রতিপাদ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে একসঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—
১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
২. সামাজিক বিজ্ঞান
৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা
৪. অর্থায়ন ও বিনিয়োগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চার খাত একসঙ্গে কাজ করলে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
গত কয়েক দশকে উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অনেক দেশে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির হারেও এগিয়ে। তবে STEM–এর নির্দিষ্ট শাখাগুলোতে—বিশেষ করে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়—নারীর উপস্থিতি এখনো তুলনামূলক কম।
গবেষণায় দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রেও একই চিত্র। প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্বের পদে নারীর সংখ্যা সীমিত। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় প্রতিফলিত হয় না।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু উদ্ভাবনের বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সমাজ গঠনের মূল চালিকা শক্তি। যদি এই খাতে নারীরা সমানভাবে অংশ নিতে পারেন, তাহলে—
- নতুন উদ্ভাবনে বৈচিত্র্য বাড়বে
- সামাজিক সমস্যার সমাধান হবে আরও বাস্তবসম্মত
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে টেকসই
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়; এটি উন্নয়নেরও শর্ত।
আন্তর্জাতিক এই দিবসে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি, আলোচনা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুদের বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা ও ক্যারিয়ারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
লক্ষ্য একটাই—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ যেন সবার জন্য সমান হয়। নারী ও কন্যাশিশুরা যেন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং নেতৃত্বদানকারী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।