ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার চারটি আসনের বেসরকারি ফলে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক চিত্র দেখা গেছে। জেলার তিনটি আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। অন্য একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। পোস্টাল ভোট বাদ দিয়ে সব কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফল বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর)
এই আসনে ১৩৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সব কেন্দ্রের ফল অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট। জেলায় সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় এসেছে এই আসনেই।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর–ভেড়ামারা)
১৭০টি কেন্দ্রের ফল গণনা শেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল গফুর ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮২ ভোট। ব্যবধান দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ৫৩৪ ভোট।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর)
এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আমীর হামজা ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৯ ভোট। এখানে ব্যবধান ৫৩ হাজার ৭৮১ ভোট।
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী–খোকসা)
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আফজাল হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬ ভোট। ধানের শীষের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬ ভোট। ব্যবধান ৫ হাজার ৯৫০ ভোট।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলার তিনটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ের পেছনে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর মধ্যে মতভেদ, মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ এবং সমন্বয় ঘাটতির বিষয়গুলো নির্বাচনের আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। এতে দলের ভোটব্যাংকের একটি অংশ ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পোস্টাল ভোটের চূড়ান্ত ফল যুক্ত হলে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তবে বেসরকারি ফল অনুযায়ী কুষ্টিয়ায় তিন-এক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক।
ফরিদ আহমেদ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি