জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং ঢাকা-৯ আসনে বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে অভিনন্দন জানিয়ে পরাজিত প্রার্থী তাসনিম জারা বলেছেন, তিনি ফলাফল মেনে নিয়েছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে বিজয়ী প্রার্থীকে শুভকামনা জানিয়েছেন। ঢাকা-৯ ও দেশের স্বার্থে গঠনমূলক রাজনীতি করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, জনকল্যাণমূলক যেকোনো উদ্যোগে তাদের সমর্থন থাকবে। তবে জনগণের ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার ভূমিকা রাখবেন।
নিজেদের প্রচারণায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণী আলোচনায় নারীরা থাকলে সিদ্ধান্তের মান বদলে যায়। তরুণী ও কিশোরীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রে নারীদের অধিকার আছে এবং আরও বেশি নারীকে সামনে আসতে হবে।
প্রচারণায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের তিনি ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতির হৃদস্পন্দন’ বলে আখ্যা দেন। সাধারণ নাগরিকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার যে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে, তা বিরল বলেও মন্তব্য করেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের মন জয় করাই রাজনীতির কঠিনতম সাফল্য, তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সংগঠিত ও সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচন শেষে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি দেশেই থাকবেন। তার শেকড় ও কাজ—দুটিই বাংলাদেশে। একটি নির্বাচনের জন্য নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের দীর্ঘ পথে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন প্রচারণায় মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব হলেও টিকে থাকতে হলে সংগঠনকে শক্তিশালী হতে হবে। নির্বাচনের দিনে প্রতিটি বুথে সাহসী পোলিং এজেন্ট ও কেন্দ্রের বাইরে সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। ভয়ভীতি মোকাবিলায় সক্ষম সংগঠন গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ জুলাইয়ের আন্দোলনে রাজপথে দাঁড়ানো সাহসী মানুষদের আত্মত্যাগের ফল। তিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তার দলকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জটিল সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সহজ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-৯ আসনে ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পাওয়াকে তিনি একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তার দাবি, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে যে মানুষ ‘ক্লিন পলিটিক্স’ চান। পুরোনো রাজনৈতিক ছক ভাঙার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, তাদের সেরা সময় এখনো সামনে এবং ঢাকা-৯ ও দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ চলবে।