দিনাজপুর–৫ (ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিশেষ রাজনৈতিক সমীকরণের জন্য আলোচিত। ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে এখন পর্যন্ত—১৯৯৬ সালের সংক্ষিপ্ত নির্বাচন ছাড়া—এই আসনে বিএনপি কোনোবারই জয় পায়নি। এবারের নির্বাচনেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। দিনাজপুর জেলার সবকটি আসনে বিএনপি জয় পেলেও, এই একটিমাত্র আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করা বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি।
তবে ফলাফলে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা। এতদিন যিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন, এবার তিনি ধানের শীষের বিপরীতে তালা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি প্রার্থী না জিতলেও, তাঁর এই জয়কে ঘিরে দলীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৯৯১ সাল থেকে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানকে। অন্যদিকে, এ জেড এম রেজওয়ানুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
এই নির্বাচনে তিনি শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আব্দুল আহাদকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করা ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
এ জেড এম রেজওয়ানুল হক মনে করেন, আলাদা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও তাঁর এই জয় মূলত বিএনপি তথা ধানের শীষেরই জয়। তাঁর ভাষ্যে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও সমর্থনভিত্তিই এই বিজয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে দিনাজপুর–৫ আসনের ফলাফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সামনে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও, দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রতীকে জয়ী হওয়ায়—এই আসনে ‘হেরেও জয়ের’ এক ব্যতিক্রমী কাহিনি তৈরি হয়েছে।