নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি দীর্ঘ পথের যাত্রা। এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য মানুষের আস্থা অর্জন, ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠিত প্রস্তুতি নেওয়া।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, শুরু থেকেই তারা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন এবং সেই অবস্থানে এখনো অটল আছেন। তিনি সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফল স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানান এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, বিগত কয়েক মাসে অনেকেই সময়, শ্রম ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন। কেউ কেউ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের এই ভূমিকা দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের ফল অনেককে হতাশ করতে পারে, তবে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। তিনি দাবি করেন, ৭৭টি আসন নিয়ে জামায়াত সংসদে তাদের উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বাড়িয়েছে এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছে।
রাজনীতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতার উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০০৮ সালে ৩০টি আসনে নেমে এলেও দীর্ঘ সময় পর আবার সরকার গঠন করেছে। তার ভাষায়, গণতান্ত্রিক রাজনীতি ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের আন্দোলন কেবল একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না। এটি ছিল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি জোরদার করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।
দেশে সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে পরিস্থিতি অবনতি না ঘটে।
দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে ছবি ও ভিডিওসহ প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়ার এবং প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়গুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
আসন্ন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়, এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের শর্ত হলো সবার জন্য সমান নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজ দলের ভেতর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
সবশেষে জামায়াত আমির পুনর্ব্যক্ত করেন, নীতিভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি তাদের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে।