কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শশীধরপুর গ্রামে ‘যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় নিরাপদ ও উচ্চমূল্যের ফসল স্কোয়াশ (জাত: রানার মোনা) উৎপাদন প্রদর্শনীর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এ আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দৌলতপুর উপজেলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মোঃ শওকাত হোসেন ভূঁইয়া, উপপরিচালক, ডিএই, কুষ্টিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার রেহানা পারভীন, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো. আলী আহমেদ, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহমেদ এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছাঃ শাহানাজ আক্তার, গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কেন্দ্র, যশোর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম।
মাঠ দিবসে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্কোয়াশ চাষের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরা হয়। দেখানো হয় কীভাবে রোগবালাই দমন করতে হবে, কীভাবে নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে এবং কীভাবে বাজারজাত করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। বক্তারা বলেন, স্কোয়াশ একটি পুষ্টিকর ও উচ্চমূল্যের সবজি। সঠিক প্রযুক্তি অনুসরণ করলে অল্প সময়েই ভালো লাভ সম্ভব।
প্রদর্শনী প্লটের কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে স্কোয়াশ (রানার মোনা) চাষ করে মাত্র ৭০ দিনের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে চলায় ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে ভালো দামও পাওয়া গেছে।
পাশের কৃষক শাহীন জানান, আগে তিনি তামাক চাষ করতেন। কিন্তু স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মাটির ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার স্কোয়াশ চাষ শুরু করেছেন। তার মতে, স্কোয়াশ চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি এবং এটি স্বাস্থ্যসম্মত ফসল।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের মাঠ দিবস কৃষকদের উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে অঞ্চলভিত্তিক টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, দৌলতপুর উপজেলায় স্কোয়াশসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফসল চাষ বাড়লে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
ফরিদ আহমেদ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি