শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী অর্ধনমিত থাকবে। পতাকার সঠিক মাপ ও উত্তোলনের নিয়ম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার চালানো হবে। জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করবে।
দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দায়িত্ব পালন করবে।
শহিদ মিনার চত্বর ও আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন, বেতার ও কমিউনিটি রেডিও একুশের অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়ক দ্বীপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাংলাসহ দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দিয়ে সজ্জা করা হবে। ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন থাকবে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ঢাকায় ট্রাকে ভ্রাম্যমাণ সংগীতানুষ্ঠান ও নৌপথে সঙ্গীত পরিবেশনের আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থাও থাকবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ছড়া ও কবিতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। বইমেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইন্সটিটিউট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা। শিশু একাডেমি মেলা উপলক্ষে বিশেষ শিশু সংখ্যা প্রকাশ করবে।
২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও এর অধীনস্থ শাখা জাদুঘর, শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সব প্রত্নস্থান ও জাদুঘর শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিনা টিকেটে উন্মুক্ত থাকবে। জাতীয় জাদুঘর ও স্বাধীনতা জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভাষা আন্দোলনের নিদর্শন প্রদর্শনী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক গ্রাফিতি প্রদর্শন, শিশুদের সুন্দর বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতা এবং সেমিনারের আয়োজন করা হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি গণগ্রন্থাগারগুলোতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভাষা শহিদদের স্মরণ এবং মাতৃভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এ বছরও ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি পালন করা হবে।