মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশুদের উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, প্রয়োজনে বিদ্যমান নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে সরকারের বাজেট ও মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর।
বৃহস্পতিবার (১৯শে ফেব্রুয়ারী) সচিবালয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে টিমওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই। মন্ত্রণালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে আন্তর্জাতিকমানের ডিএনএ ল্যাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ ধরনের ল্যাব স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের সঙ্গে নারী ও শিশুর বিষয়টি জড়িত। তাই সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্প যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তবে মানুষের কাজে লাগে—সেইভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অপচয় রোধ করে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান দিতে পারলে মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একসঙ্গে অনেক কাজ নেওয়ার চেয়ে অল্প কিছু কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করাই মন্ত্রণালয়ের প্রকৃত সাফল্য হবে।
সভায় নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। কর্মকর্তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণে জোর দেওয়া হচ্ছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে একটি কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।