খাস জমি দখলের অভিযোগে কুষ্টিয়ায় উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সরকারি খাস জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২০শে ফেব্রুয়ারী) উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের বড়গাংদিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়গাংদিয়া বাজারের পাশে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন জেলা পরিষদের প্রায় ১৬ কাঠা জমি দীর্ঘদিন ধরে বাজারের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা সেখানে ভ্যান ও সাইকেল রাখেন। জমিটি স্থানীয় জনগণের স্বার্থে উন্মুক্তভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানান তারা।

অভিযোগ রয়েছে, ওই জমির মালিকানা দাবি করে দখলের উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লার লোকজন একজন সার্ভেয়ার নিয়ে জমি মাপজোক করতে যান। এ সময় বাজার কমিটির সভাপতি বাদশা আলীসহ স্থানীয়রা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বড়গাংদিয়া বাজার কমিটির সভাপতি বাদশা আলী বলেন, “জমিটি বহু বছর ধরে বাজারের স্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে। এখানে বিল্ডিং নির্মাণ হলে বাজার বসার জায়গা থাকবে না। তাই এলাকাবাসী বাধা দিয়েছে।”

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, জেলা পরিষদের একটি জমিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। তিনি জানান, মৌখিকভাবে জানা গেছে জেলা পরিষদ জমিটি ১৬ জনের নামে বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে লিখিত নথি যাচাই করা প্রয়োজন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ্য বলেন, জমিটি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন। কার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা নথি দেখে নিশ্চিত করা হবে। বরাদ্দ থাকলেও জমিটি স্থানীয় জনগণের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি খাস জমি বরাদ্দ বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো জমি জনস্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে তা বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নথি যাচাই ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশাসনের তদন্ত ও নথি যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকে নজর স্থানীয়দের।

ফরিদ আহমেদ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *