পবিত্র রমজান মাসে কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ব্যতিক্রমী দিন কাটালেন বিশ্বখ্যাত ফুটবলার মেসুত ওজিল। তিনি ক্যাম্প–৪ এ রোহিঙ্গা কিশোরদের সঙ্গে মাঠে নামেন এবং আরাকান রোহিঙ্গা ফুটবল লিগের গ্র্যান্ড ফাইনালে যোগ দেন। বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার উপস্থিতিতে শরণার্থী শিবিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় উখিয়ায়। মাঠ প্রস্তুত, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয় এবং ১৬টি দলের জন্য আতিথেয়তায় সহায়তা করে একশন এইড বাংলাদেশ। এতে সহযোগিতা করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থা।
ওজিলের সফরটি ছিল একটি তুর্কি প্রতিনিধিদলের অংশ। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন নেকমেত্তিন বিলাল এরদোগান। সঙ্গে ছিলেন তুরস্কের সহায়তা সংস্থা টার্কিশ কোঅপারেশন এন্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি–এর প্রধান আব্দুল্লাহ ইরেন। তারা বালুখালী ক্যাম্প–৯ এ একটি তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল এবং বহুমুখী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে চলমান মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উদ্যোগ সম্পর্কে খোঁজ নেন।
ফাইনাল ম্যাচে খেলোয়াড়দের প্রতিটি পাস, দর্শকদের স্লোগান এবং ইফতার ভাগাভাগির মুহূর্তে ফুটে ওঠে একাত্মতার ছবি। আয়োজকদের ভাষ্য, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়—এটি ভিন্ন পটভূমির মানুষকে একত্র করে, আত্মমর্যাদা জাগায় এবং মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ জানায়, তারা রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নে নিয়মিত ফুটবল ও কাবাডির মতো খেলার আয়োজন করে। এসব কার্যক্রম মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হয়। সংগঠনটির মতে, এমন উদ্যোগ মেয়েদের জন্য নিরাপদ পরিসর তৈরি করে, যেখানে তারা আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা গড়ে তুলতে পারে।
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার জীবনের মাঝে এই দিনটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। মাঠে ফুটবল ঘুরেছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ঘুরেছে আশার বার্তা—যে খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে।