দেশে স্নায়ুরোগীদের চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চলতি মাসেই চালু হতে যাচ্ছে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন। নতুন এই ভবন উদ্বোধনের পর হাসপাতালটির মোট শয্যা সংখ্যা দাঁড়াবে ১ হাজারে, যা একে দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত নিউরো চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ইতোমধ্যে ১৫ তলা বিশিষ্ট ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর নিচের তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে পার্কিং ও সার্ভিস সেকশন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বাকি ১২ তলায় থাকবে ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিট। হাসপাতালের নতুন এই ভবনটি সম্পূর্ণ সেন্ট্রাল এসি সিস্টেমে পরিচালিত হবে—যা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে প্রথম সংযোজন।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, “নতুন ভবনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি এই মাসের মধ্যেই এটি উদ্বোধন করা হবে। এতে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হবে এবং রোগী সেবার পরিসর ব্যাপকভাবে বাড়বে।”
বর্তমানে শয্যা সংকটের কারণে প্রতিদিন বহু রোগীকে ভর্তি দেওয়া সম্ভব হয় না। সহকারী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, “প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ জনকে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়, কিন্তু শয্যা না থাকায় মাত্র ২০-২৫ জনকেই ভর্তি করা যায়। নতুন ভবন চালু হলে আরও ৫০০ শয্যা যোগ হবে, তখন অনেক বেশি রোগী সেবা পাবেন।”
নতুন ভবনে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট থাকবে, যেখানে সড়ক দুর্ঘটনা বা উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া রোগীদের ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধা দেওয়া হবে। চারটি ওটির মধ্যে দুটি থাকবে জার্মান প্রযুক্তির মডুলার অপারেশন থিয়েটার, যা জীবাণুমুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সার্জারির জন্য তৈরি।
২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৩০০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল। পরে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরও ২০০ শয্যা বাড়ানো হয়। এবার নতুন ভবন চালু হলে মোট শয্যা সংখ্যা হবে ১ হাজার।
ডা. হিমু বলেন, “নতুন ভবন চালু হলে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় নিউরো হাসপাতাল হিসেবে এটি পরিচিতি পাবে। তখন স্ট্রোকসহ জটিল নিউরোলজিক্যাল রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা এখানেই দেওয়া সম্ভব হবে।”
সূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল