টাঙ্গাইলে এক যুগ ধরে পথচারী ও শ্রমজীবীদের জন্য ইফতার আয়োজন

 

জাকির হোসেন

টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গত এক দশক ধরে চলেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক মানবিক উদ্যোগ। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ত্রিবেণী টাঙ্গাইল’ এবং বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে প্রতি বছর রমজান মাসজুড়ে গরিব, অসহায় ও পথচারী মানুষের জন্য নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, প্রায় এক যুগ ধরে ধারাবাহিকভাবে রমজানের শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের পথচারী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালকসহ শ্রমজীবী মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন মানুষ এখানে একসঙ্গে ইফতার করেন।

ইফতার আয়োজনের পরিবেশও থাকে সাদামাটা ও শান্ত। চত্বরে চট বিছিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসেন অংশগ্রহণকারীরা। কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা বা দীর্ঘ আলোচনা থাকে না। বিকেল থেকে কোরআন তেলাওয়াত চলতে থাকে এবং ইফতারের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম উপস্থিত সবাইকে নিয়ে দোয়া পরিচালনা করেন।

মাগরিবের সময় হলে খেজুর ও শরবত দিয়ে ইফতার শুরু করা হয়। এরপর সবার জন্য পরিবেশন করা হয় মাংসের খিচুড়ি। স্বেচ্ছাসেবকেরা আগেভাগেই ইফতারের খাবার প্রস্তুত করে এনে সবার সামনে প্লেট সাজিয়ে দেন এবং পুরো আয়োজনটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন।

আয়োজকদের মতে, এই ইফতার মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য হলো রমজানের মানবিক ও সাম্যের বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া এবং শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করা। স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং প্রতিবছর এর প্রশংসা করছেন।

আয়োজকদের একজন বিভূতী কুমার ভট্টাচার্য বলেন, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা এবং মানুষের দোয়ায় এই উদ্যোগ এতদিন ধরে চলতে পেরেছে। ভবিষ্যতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ টাঙ্গাইল শহরে সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *