সরকারি হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক দায়িত্ব পালনকালে বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বার করলে তার লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শরীয়তপুর ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক রাজেশ মজুমদারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি হাসপাতালে হাজিরা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে স্থানীয় আধুনিক সিটি হাসপাতাল-এ ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন।
মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে এবং বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হবে। পাশাপাশি তার চিকিৎসক নিবন্ধন স্থগিতের প্রক্রিয়াও চলছে। তিনি বলেন, এই ঘটনা অন্য চিকিৎসকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।
শুধু চিকিৎসকের বিরুদ্ধেই নয়, যেখানে তিনি প্রাইভেট চেম্বার করেছেন সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীরা যেন নিয়মিত চিকিৎসক পান এবং সরকারি ওষুধ যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে—সেটি নিশ্চিত করতে সারাদেশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এজন্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকারি চিকিৎসক অফিস সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার লাইসেন্স স্থগিতসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ে বড় আকারে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পদে প্রায় এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ পদে নারী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করা এবং রোগীদের জন্য চিকিৎসা সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।