উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হারলেও লড়াইয়ে প্রশংসা

এশিয়ার শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হারলেও পারফরম্যান্সে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার জাতীয় মহিলা ফুটবল দল–এর বিপক্ষে ৫–০ গোলে হারলেও ম্যাচজুড়ে লড়াই করার মানসিকতা এবং বল দখলে রাখার চেষ্টা প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবল বিশ্লেষকদের।

এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে নেমে বাংলাদেশ দল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করে। ম্যাচের প্রথমার্ধের নিয়মিত সময়ে কোনো গোল হয়নি। রক্ষণে সংগঠিত থাকার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একটি ভুলের পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে।

তবে স্কোরলাইনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। পুরো ম্যাচে ফুটবলারদের মনোভাব ছিল ইতিবাচক। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বল পায়ে রেখে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে দল। ম্যাচ শেষে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়েন খেলোয়াড়েরা।

পরিসংখ্যান বলছে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও বাংলাদেশ প্রায় ৩৯ শতাংশ সময় বল দখলে রাখতে পেরেছে। এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে এ ধরনের পজেশন সাধারণত বিরল ঘটনা।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা টেকনিক্যালি ভালো হলেও বড় দলের বিপক্ষে সমস্যা তৈরি হয় শারীরিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে। উত্তর কোরিয়ার মতো দলগুলো প্রতিপক্ষকে খুব কম জায়গা দেয়। তাদের গতি, শারীরিক শক্তি ও সংগঠিত ডিফেন্স ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে স্পেস তৈরি না হলে আক্রমণে সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়।

রক্ষণভাগের কিছু কৌশলগত বিষয়েও উন্নতির দরকার মনে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে দূরত্ব কমানো এবং অবস্থান ধরে রাখার বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

বাংলাদেশের ফুটবল যাত্রার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বর্তমান অবস্থানকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সকলেই। ২০১৭ সালে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় একই প্রতিপক্ষের কাছে ৯ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে সিনিয়র পর্যায়ে এসে লড়াই করে খেলতে পারা অগ্রগতিরই ইঙ্গিত।

পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। গ্রুপ পর্বে সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়া অসম্ভব নয়।

অন্য গ্রুপের সমীকরণেও নজর থাকবে। ইরানের মহিলা জাতীয় ফুটবল দল ও ফিলিপাইনের মহিলা জাতীয় ফুটবল দল–এর ম্যাচের ফলাফলও গ্রুপ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্য গ্রুপে ভারতের মহিলা জাতীয় ফুটবল দল, চাইনিজ তাইপেই মহিলা জাতীয় ফুটবল দল ও ভিয়েতনাম মহিলা জাতীয় ফুটবল দল–এর ম্যাচগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অন্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা জেতা।

এশিয়ার শীর্ষ প্রতিযোগিতা এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ–এ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করে খেলতে পারাই বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অগ্রগতির বড় প্রমাণ। এখন দেখার বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই লড়াইকে জয়ে রূপ দিতে পারে কি না বাংলার মেয়েরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *