মারজানা আক্তার পেলেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ

বাংলাদেশের প্রথম নারী গবেষক হিসেবে মারজানা আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন জাতিসংঘের ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ ২০২৫ প্রোগ্রামে। বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্য থেকে মাত্র ১০ জন তরুণী গবেষক এই মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, এবং তাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই মেধাবী নারী বিজ্ঞানী।

ফেলোশিপ আয়োজন করেছে জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক দপ্তর, যা বিশ্বব্যাপী বায়োলজিক্যাল উইপনস কনভেনশনের ৫০ বছর পূর্তির স্মরণে আয়োজন করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো— জীববিজ্ঞানকে মানবকল্যাণের পথে ব্যবহার করা এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বায়োসিকিউরিটি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

৬ অক্টোবর মারজানা আক্তার নিজেই এই সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেন। তার সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ডিসেম্বর মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেবেন। বাংলাদেশের হয়ে সেখানে তার প্রতিনিধিত্ব একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।

মারজানা সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতকোত্তর (এমএসসি) শেষ করেছেন। এর আগে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট) থেকে বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্নাতকোত্তর গবেষণায় তিনি বাংলাদেশের পোলট্রিতে চিকেন ইনফেকশাস অ্যানিমিয়া ভাইরাসের জেনোটাইপ থ্রি-বি স্ট্রেইন প্রথম শনাক্ত করেন, যা ভাইরোলজি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও তার অধ্যবসায় নজর কাড়ে। স্নাতকোত্তর পড়াশোনার সময়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ মাসে আইসিইউতে ভর্তি হতে হয়। তবু তিনি থেমে থাকেননি, সমর্থন পেয়েছেন তার তত্ত্বাবধায়ক ড. গোলজার হোসেন থেকে। জন্মের পর কয়েক সপ্তাহে অসুস্থ শরীর নিয়ে থিসিস শেষ করেন এবং সাকুরা সায়েন্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সুযোগের জন্য নির্বাচিত ল্যাবের সঙ্গে অংশ নেন।

মারজানা ইতোমধ্যেই ৯টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তার গবেষণার ক্ষেত্র ভাইরোলজি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) এবং সংক্রামক রোগ। তিনি বলেছেন, “জাতিসংঘের ফেলোশিপে নির্বাচিত হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। আমি চাই দেশের মেয়েরা জানুক— কোনো কষ্ট বা বাধাই স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না।”

জাতিসংঘের এই ফেলোশিপের মাধ্যমে মারজানা বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে জীববিজ্ঞান ও বায়োসিকিউরিটি বিষয়ে কাজ করবেন, যা ভবিষ্যতের তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *