রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবনে নতুন চলচ্চিত্র ‘মায়ের ডাক’-এর নির্মাণযাত্রা শুরু হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি গুমের শিকার মানুষের পরিবারগুলোর বেদনা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে সরকার থাকবে। তাদের সহায়তা করা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলচ্চিত্রটি গুমের ঘটনাগুলোর বাস্তব চিত্র সমাজের সামনে তুলে ধরবে। এর মাধ্যমে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় আসবে বলেও তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, গুমের বিচার নয়, গুম হওয়া মানুষদের ফিরে পাওয়া—এটাই পরিবারের প্রধান দাবি। তিনি হত্যা ও গুমের রাজনীতি থেকে মুক্ত একটি মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ কেউ চায় না যেখানে মানুষ হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায়। অতীতে যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে—এই প্রত্যাশা সবার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা।
সচিব মাহবুবা ফারজানা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নারীর অধিকার, সম্মান ও সংগ্রামের বিষয়টি সমাজে আরও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। তিনি আশা করেন, ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রটি মানবিক মূল্যবোধের শক্ত বার্তা বহন করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হাজেরা খাতুন, যার জীবনের গল্প এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সিনেমা গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ কষ্ট, অপেক্ষা ও সংগ্রামের কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবে।
বক্তারা মনে করেন, ‘মায়ের ডাক’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়—এটি গুমের ঘটনাগুলো নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি প্রচেষ্টা। ছবিটি মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও ন্যায়ের প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনায় আনবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।