রোহিঙ্গাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ হাইকমিশনার

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক এ কথা জানিয়েছেন।

রবিবার (৮ই মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় চারটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো ক্যাম্পের নিরাপত্তা, শরণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং ক্যাম্পে মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ। সরকার এসব বিষয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় রাখতে যুক্তরাজ্য কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এ রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনা হয়। এতে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো যুক্তরাজ্যও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিশ্বাস করে। তবে প্রত্যাবাসন অবশ্যই নিরাপদ হতে হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় ছিল পুলিশ সংস্কার, সন্ত্রাসবাদ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন এবং ভিসা প্রতারণা প্রতিরোধ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভিসা প্রতারণা বন্ধে দুই দেশের মধ্যে শিগগির একটি চুক্তি সই হতে পারে। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে চুক্তির একটি খসড়া পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তি স্বাক্ষর করতে চায়।

হাইকমিশনার বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন রোধে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিগগির দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রী পুলিশ সংস্কারে যুক্তরাজ্যের সহায়তা কামনা করেন। এছাড়া গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং বন্দি প্রত্যর্পণ বিষয়েও দুই পক্ষ একমত পোষণ করে। সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর টিম ডাকেট, জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন এবং ইন্টারন্যাশনাল লিয়াজোঁ অ্যান্ড মাইগ্রেশন অফিসার আব্দুল ওয়াহিদ।

হাইকমিশনার জানান, আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল ফ্রড সামিট-এর সাইডলাইনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি আলোচনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *