বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শনিবার পাবনা জেলার রূপপুরে অবস্থিত প্রকল্প এলাকায় তিনি বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বড় প্রকৌশল প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক। এসব চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। ঝুঁকি কমিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে গেলে প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি মাইলফলক প্রকল্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিভিচ খোজিনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রূপপুর প্রকল্পটি চালু হলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দেশের জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।