নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে সরকার। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ই মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপ দিয়ে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করেন। পরে কয়েকজন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাই তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে এই কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বহু বছর ধরে এই কর্মসূচি নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে। আজ সেটি বাস্তব রূপ পেয়েছে। শুরুতে ১৪টি স্থানে কার্যক্রম চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নারীপ্রধান পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবে। এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। ফলে ঘরে বসেই ভাতা পাওয়া যাবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এটি দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পনা। এই কর্মসূচিতে দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ থাকবে না। সব লেনদেন হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া এক নারী রাশেদা বলেন, উদ্বোধনের পরই তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে। এতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে এবং নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।