জন্মদিনে অমিতাভ বচ্চনের অজানা গল্প

বিজয় মজুমদার

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন পার করলেন আরো একটি জন্মদিন। অসংখ্য ভক্ত ও সহকর্মীর শুভেচ্ছায় সিক্ত এই দিনে মনে পড়ে তাঁর জীবনের কিছু কম পরিচিত তথ্য—যা তাঁকে সাধারণ এক মানুষ থেকে চলচ্চিত্র ইতিহাসের “মেগাস্টার”-এ পরিণত করেছে।

অমিতাভের পুরো নাম অমিতাভ হরিবংশ রাই বচ্চন, আর তাঁর পারিবারিক উপাধি শ্রীবাস্তব। জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ইনকিলাব বচ্চন, যার অর্থ স্বাধীনতা। তবে প্রখ্যাত কবি সুমিত্রানন্দন পন্থের পরামর্শে তাঁর পিতা, কবি হরিবংশ রাই বচ্চন, নাম বদলে রাখেন অমিতাভ—যার অর্থ অসীম জ্যোতি বা আলো।

চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ভয়েস-ওভার শিল্পী হিসেবে। ১৯৬৯ সালের ভুবন সোম ছবিতে তিনি কণ্ঠ দেন, যদিও অভিনয়ের সুযোগ পাননি। প্রথম দিকের বেশিরভাগ ছবিই ফ্লপ হওয়ায় তাঁকে অনেক সময় অতিথি শিল্পী বা বোবার চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল।

অমিতাভের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জয়া ভাদুড়ীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ঘুড্ডি ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে অভিনয়ের কথা থাকলেও, তাঁকে সেই ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়—কারণ, তখন তিনি আনন্দ মুভিতে অভিনয়ের প্রস্তুতিতে ছিলেন। সেই ছবিতেই রাজেশ খান্নার সঙ্গে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে প্রথমবারের মতো দর্শকের প্রশংসা কুড়ান অমিতাভ।
এরপর জঞ্জির সিনেমায় নায়ক হিসেবে সাফল্য পান, আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’-এর যুগ।

অমিতাভের যে মুভিটি অমিতাভকে বিখ্যাত করেছে সেটি হলো শোলে। কিন্তু এই মুভিতে অমিতাভ এর অভিনয় করার কথাই ছিল না। এই মুভিতে অমিতাভ অভিনীত জয় চরিত্রে পরিচালক শত্রুঘ্ন সিনহাকে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি এতে রাজি হননি। অমিতাভ এই চরিত্রে অভিনয় করতে চাইলেও পরিচালকরা তাতে রাজি হচ্ছিলেন না। এই মুভির স্কীপ্ট রাইটার ছিলেন সেলিম জাভেদ। তারা চাইছিলেন জয় চরিত্রে অমিতাভকে নিতে। কিন্তু পরিচালককে বলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। তখন তারা অমিতাভকে একটি পরামর্শ প্রদান করলেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী অমিতাভ গেলেন ধর্মেন্দ্রর কাছে যার কীনা বীরু নামের রোল করার কথা। বিনয়ী অমিতাভ এর অনুরোধে ধর্মেন্দ্র ফেলতে পারলেন না, আর ধর্মেন্দ্রর অনুরোধ পরিচালক। আর যার ফলে জন্ম নিল অমিতাভ নামের এক মেগাস্টার।। বাকিটা ইতিহাস—সেই চরিত্র থেকেই জন্ম নেয় বলিউডের “বিগ বি”।

আজও অমিতাভ বচ্চন কেবল এক অভিনেতা নন—তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক প্রতিষ্ঠান। তাঁর জীবনগাথা প্রমাণ করে, অধ্যবসায় ও সময়ের অপেক্ষাই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *