শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দেশের সকল শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদের বোনাস ছুটির আগেই পরিশোধ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না।
মন্ত্রী শনিবার (১৪ই মার্চ) বেইলি রোডে সরকারি বাসভবনের অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের সভায় আরএমজি ও নন-আরএমজি সেক্টরের শ্রম অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে করণীয় আলোচনা করেন। তিনি জানান, সংসদীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের দেওয়া হবে, যারা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বকেয়া অর্থ দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করবেন।
সভার অন্যান্য নির্দেশনায় মন্ত্রী ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ঋণ নিশ্চিত করতে বলার পাশাপাশি, শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করা বা শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা যারা করবে তাদের বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পলাতক মালিকদের তালিকা তৈরি করা হবে এবং এসব কারখানায় অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক সমস্যার দ্রুত সমাধানে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।
বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২ হাজার ১২৭টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৯৬৪টি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১ হাজার ৫৩৫টি ঈদের বোনাস দিয়েছে। বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪ কারখানার মধ্যে ৫১২টি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে এবং ৬০৪টি ঈদের বোনাস দিয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুর রহমান তরফদার সভায় বলেন, আপদকালীন ফান্ড ব্যবহার করলে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।
সভায় ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য এবং গাজীপুর জেলার সংসদ সদস্যসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।