জাকির হোসেন
যাদু সম্রাট পি.সি সরকারের কথা মনে আছে? যিনি শূন্য থেকে কবুতর উড়িয়ে দিতেন কিংবা চোখের পলকে অদৃশ্য করে দিতেন কঠিন সব বস্তু। সেই কিংবদন্তি মানুষের স্মৃতিটুকু আগলে রাখতে টাঙ্গাইলে এক অদ্ভুত মায়াবী সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল ‘পি.সি সরকার সাংস্কৃতিক পরিষদ বাংলাদেশ’। তবে এবারের যাদুটা একটু অন্যরকম—হৃদয় দিয়ে হৃদয়কে ছোঁয়ার যাদু।
ইফতারের আগের সেই নরম আলোয় যখন আকাশটা একটু একটু করে সিঁদুরে হয়ে আসছিল, ঠিক তখন টাঙ্গাইলে পিসি সরকার সাংস্কৃতিক পরিষদের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে জড়ো হয়েছিলেন টাঙ্গাইলের একঝাঁক গুণী মানুষ। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মন্ত্রী মহোদয় যখন পিসি সরকারের স্মৃতি নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন হলরুমে এক অন্যরকম নিস্তব্ধতা নেমে এল। মনে হচ্ছিল, ম্যাজিক সম্রাটের সেই সাদা সিল্কের টুপি আর জাদুকরী হাসিটা কোথাও আড়ালে দাঁড়িয়ে আমাদের দেখছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোঃ লুৎফর রহমান মতিন। রাজনীতির কঠিন খোলস ছেড়ে তিনি তখন একান্ত এক সাংস্কৃতিক অনুরাগী। সাথে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর মতো পরিচিত মুখগুলো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছিলেন, পিসি সরকার সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোবারক হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি যখন পিসি সরকারের বর্ণাঢ্য জীবনের ছোট ছোট গল্প বলছিলেন, তখন সাংস্কৃতিক কর্মীদের চোখে এক অদ্ভুত দীপ্তি দেখা যাচ্ছিল। উপদেষ্টা বিপ্লব দত্ত পল্টন আর সাধারণ সম্পাদক এস. এম মানিকের কথাগুলো যেন অনুষ্ঠানের আবহকে আরও গাঢ় করে তুলেছিল।
ইফতারের টেবিলে শফিকুর রহমান খান- সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা বিএনপি টাঙ্গাইল, আজিম উদ্দিন বিপ্লব- সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপি, সালে মোহাম্মদ শাফী ইথেন- সদস্য সচিব জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল টাঙ্গাইল জেলা, অ্যাডভোকেট মমতাজ করিম- সাবেক সাধারণ সম্পাদক, টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দল থেকে শুরু করে নারান্দিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মহর আলী আর কালিহাতি উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রহিমা আক্তার, মোঃ জাকির হোসেন- সভাপতি বাংলাদেশ অক্ষম এবং অসহায় পুনর্বাসন সংস্থা এবং সুরকার ও গীতিকার ফিরোজ আহম্মেদ বাচ্চু’র উপস্থিতি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী।
মোনাজাতের ঠিক আগ মুহূর্তে যখন পিসি সরকার সাংস্কৃতিক পরিষদের উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম, আবু কায়সার জুয়েল এবং নীল কমল পালরা হাত তুললেন, তখন পুরো পরিবেশটা যেন আধ্যাত্মিক এক শান্তিতে ভরে উঠল। এ. এইচ. এম জাহাঙ্গীর আলম খানের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা থাকেনি, হয়ে উঠেছিল মানুষের সাথে মানুষের এক গভীর সংযোগ।
সবশেষে ইফতারের সেই খেজুর মুখে দিয়ে যখন সবাই এক প্রশান্তির হাসি হাসছিলেন, তখন মনে হলো—দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ যাদু তো আসলে এটাই। মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা যখন এক জায়গায় এসে দাঁড়ায়, তখন সব যাদু হার মেনে যায়। পিসি সরকার বেঁচে নেই, কিন্তু তার স্মৃতিগুলো টাঙ্গাইলের এই সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাধ্যমে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।