তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারাতে আজ সন্ধ্যায় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ খলিলুর রহমান অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্ককে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিল্প, অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে তুর্কি বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তুরস্কে পাঠানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশই কাজ করবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তারা মতবিনিময় করেন।
বিশেষ করে গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকের সময় কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই সমঝোতা স্মারকটি তুরস্কের কূটনীতি একাডেমি এবং বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সম্মানে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইফতার ও কর্মভোজের আয়োজন করেন। সেই অনানুষ্ঠানিক আড্ডা-আলোচনায়ও দুই দেশের সহযোগিতার নানা দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
তুরস্ক জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক—উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন অধিবেশনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-এর সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে তুরস্ক তাদের নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছে।
দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে, এই বৈঠকের ফলাফল আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে অর্থনীতি, কূটনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে।